Wednesday, 23 September 2015 08:52

জামালগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী শতাধিক Featured

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালগঞ্জ :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পবিত্র ঈদ উল আযহা ও শারদীয় দূর্গা পূজায় প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। দক্ষ দেখে পক্ষ নিন, ওমুক ভাইয়ের সালাম নিন, ওমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র শ্লোগান ইতিমধ্যে জামালগঞ্জের আনাচে কানাচে শুরু হয়ে গেছে। হাত মিলানো, কুশল বিনিময়ও শুরু গেছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ প্রার্থীই তাদের পক্ষ থেকে নানা রংয়ের পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড দিয়ে ইউনিয়ন বাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। উপজেলা সদর, সাচনা বাজার সহ উপজেলার হাট বাজারগুলোতে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে।
৩৩৮বর্গ কি:মি জামালগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৪৫ টি ওর্য়াডে ১৯২ টি গ্রামের মোট ভোটার সংখ্যা  ১ লক্ষ ৬ হাজার ৬ জন। উপজেলার বেহেলী ,জামালগঞ্জ সদর,ভীমখালী, সাচনা বাজার ও ফেনারবাক ইউনিয়নে চেযারম্যান প্রার্থী হবে শতাধিক। উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে কয়েক ইউনিয়নে আছেন সাংবাদিক প্রার্থী,তারাও চষে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য বিষয় এই বছর নারী প্রার্থীরাও প্রচারনায় আছেন। ৫ ইউনিয়নের মধ্যে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। ইতিমধ্যে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিভাজন হওয়ার কার্যক্রম চলমান। সব মিলিয়ে নতুন পুরাতন নারী সহ সকল প্রার্থীরাই প্রচারনায় আছেন। ভোটারদের দৃষ্টি ও মনোযোগ আকর্ষন করতে তারা নানা ধরনের সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছেন,কোথাও কোন অনুষ্টান হলে প্রার্থীদের ভীড় সেখানে লক্ষ করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটারদের আকর্ষন করতে অনেক প্রার্থীই তার পারিবারিক ঐতিহ্য তুলে ধরছেন ভোটারদের কাছে। ভোটাররা অবশ্য এই বিষয় গুলোকে প্রাধ্যন্য দিচ্ছেননা, অনেক ভোটারই মনে করেন প্রার্থীর চরিত্র, তার কর্মকান্ড,ব্যক্তিত্ব দেখেই ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সদর ইউনিয়ন বিভক্তি হলে নির্বাচনের ধরন হবে এক আর বিভক্তি না হলে ধরন হবে আরেক। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল চাইছে ইউপি নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী দেওয়ার, দলীয় নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থী দিবে, তখন নির্বাচনও হবে দু দলের প্রার্থীর মধ্যে তখন প্রার্থীর সংখ্যাও কম হবে বলে জানান প্রার্থীরা।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদের পরিবারে একাধিক প্রার্থী প্রচারনায় আছেন। ইতিমধ্যে তার আপন ছোট ভাই আসাদ আল আজাদ,চাচাতো ভাই জয়নাল আবেদীন ও ছেলে ইকবাল আল আজাদ প্রচারনায় আছেন, চাচাতো ভাই বুরহান আল আজাদ, দীর্ঘ দিন প্রচারনায় ছিলেন বর্তমান ইউপি সদস্য আলী আক্কাছ মুরাদও। তবে তাদের পরিবারের যার অবস্থান ভালো তাদের থেকে একজন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন পরিবারের পক্ষ থেকে। জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়ার ছোট ভাই বর্তমান সদরের চেয়ারম্যান ফয়জুল আলম মোহনের পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রচারনায় আছেন উনার ২য় ছেলে সাজ্জাদ মাহমুদ সাজিব। ২ বারের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এড: আসাদ উল্লাহ সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি নিজে আসতে পারেন,তবে ইতিমধ্যে প্রচারনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন উনার ভাইপো সাবেক ছাত্র নেতা জামিল আহমদ জুয়েল। শেষ পর্যন্ত তিনি না এসে জামিল আহমদ জুয়েলও আসতে পারেন। প্রচারনায় আছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, মোবারক আলী তালুকদার, আবুল কালাম, নাজিম উদ্দিন, রজব আলী, অবসর প্রাপ্ত আর্মি দেলোয়ার হোসেন ও জালাল মিয়া, খন্দকার শহীদুল ইসলাম, আবুল খয়ের, জিয়াউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, ফারুক আহমদ,রবীন্দ্র কুমার রায় সহ বর্তমান সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শারমীন সুলতানার নামও জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।
সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের হিসাব নিকাশ হবে কঠিন। সাচনা বাজারের নির্বাচন হবে পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষার নির্বাচন,সাবেক সকল চেয়ারম্যানের প্রত্যক পরিবার থেকে একজন করে প্রার্থী বর্তমানে প্রচার প্রচারনায় আছেন। সাচনা বাজারের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম নিজে অথবা তার পরিবার থেকে তার ছোট ভাই ব্যবসায়ী এহসানুল করিম পারভেজও আসতে পারেন।
সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হক আফিন্দি নিজে অথবা তার কোন ছোট ভাই নির্বাচনে আসতে পারেন,সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সোবান আফিন্দির ২য় ছেলে ছাত্রনেতা গোলাম রব্বানী আফিন্দি ইতিমধ্যে প্রচার প্রচারনায় নেমেছেন। সাচনা বাজারের ইউনিয়নের প্রথম চেয়ারম্যান মোজাহিদ আলীর ছেলে সাংবাদিক সেলিম আহমদ বিগত নির্বাচন থেকে মাঠে প্রচারনায় আছেন। সাবেক চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের
ছেলে ইউপি সদস্য সোহেল আহমদের নাম শোনা যাচ্ছে। এর বাইরে নির্বাচনে আসতে পারেন সাচনা বাজারের ব্যবসায়ী বিপ্লব পাল,কবির আলম,মিজবাহ উদ্দিন সহ আরো কয়েকজন প্রার্থীর নাম মাঠে শোনা যাচ্ছে।
ভীমখালী ইউনিয়নে হিসাব নিকাশ হয় ব্লক দিয়ে কোন ব্লক থেকে প্রার্থী কম সে হিসাবে প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারন হয়। ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদে কম বয়সী প্রার্থীই বেশী হলে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান তালুকদার না এসে তার ছেলেকেও প্রার্থী করা হতে পারে বলে জানান তার ঘনিষ্টজনরা।
সাবেক চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন নির্বাচনে না আসায় স্থানীয় লাল বাজার ও আট গাওয়ে প্রার্থী সংখ্যা বেড়ে গেছে, তার জায়গায় ভাগনা সাংবাদিক মো. আখতারুজ্জামান প্রচার প্রচারনায় আছেন। প্রচারনায় আছেন এড: শাহীনুর রহমান,আখতারুজ্জামান শাহ, আবু বকর,দুলাল মিয়া,আসাদ মিয়া, এড: আ: খালেক, মানিক মিয়া, আবু তাহের, দুলাল আহমদ, সোহাগ মিয়া,মৌলানা গোলাম নূরের নাম  সহ আরো প্রার্থীদের নাম এলাকায় শোনা যাচ্ছে।
অবহেলিত বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে এবার বেশী জমজমাট হবে বলে মনে করছেন হাওর পাড়ের ভেটাররা। বর্তমান চেযারম্যান সিরাজুল হক তালুকদার ছাড়াও প্রার্থী হবেন সাবেক চেয়ারম্যান নির্মাল্য কান্তি রায় সসীম,মিনু মজুমদার,ধর্মরাজ চৌধুরী,লন্ডন প্রবাসী সাবেক ছাত্র নেতা সোহেল আহমদ,রতি রঞ্জন পুরকায়স্থ,অসীম তালুকদার,আসাদুর রহমান,আবুল হোসেন,মোকসোদ মিয়া,ফারুক মিয়া,ভজন তালুকদার,জুলহাস মিয়া,ইনু মিয়া প্রমুখের নাম শোনা যাচ্ছে।
ফেনারবাকের নির্বাচনে সুরমা নদীর পাড় আর পাকনার হাওরের ভিতরের একটি অংশ আর স্থানীয় সনাতন ধর্মের ভোটারা বিভক্তি হয়ে পড়ে। দীর্ঘ দিন ধরে এভাবে চললেও বিগত নির্বাচনে এর বিপরীত ভাবে নেন ভোটাররা। প্রথমবারের মত নদীর পাড় থেকে নির্বাচিত হন বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান। দীর্ঘ দিন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক কয়েকবারের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার বর্তমানেও প্রচারনায় আছেন। করুনা সিন্ধু তালুকদার ও জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টুর রাজনৈতিক দল এক হলেও মত প্রার্থক্যের কারনে ছাড় না দিয়ে বার বার প্রার্থী হন সাবেক ছাত্র নেতা জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু। আর পরাজিত হন দুজনই। এবার স্থানীয় নৌও মৌজার ভোটররা তাদের দুজনকে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী খুজছেন তারা। তাদের থেকে প্রচারনায় আছেন সাবেক চেয়ারম্যান রথীন্দ্র তালুকদার, সাধন তালুকদার, সুবোধ চন্দ্র তালুকদার,সুব্রত পুরকায়স্থ, রেন্টু সরকার, শংকর সমাজপতি, সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন হোসেন বাবলু,সাবেক ছাত্র নেতা জুলফিকার চৌধুরী রানা, রফিকুল ইসলাম রানা, সাইদুর রহমান, সিরাজুল হক ওলী, নদীর পাড় থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, ইউপি সদস্য নূর মিয়া, সাবেক সদস্য রজব আলী, আব্দুল লতিফ নাজেল সহ আরো কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।
ভীমখালীর চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান তালুকদার জানান,জনগন আমাকে ভালোবেসে  নির্বাচিত করেছে,জনগন চাইছে আমি আবারো নির্বাচন করি,তাদের পাশে থেকে সেবা করি।
জামালগঞ্জ সদরের চেয়ারম্যান ফয়জুল আলম মোহন বলেন,জনগন চাইলে আমি আবারো নির্বাচনে অংশ নেবো।
ফেনারবাকের সাবেক চেয়ার করুনা সিন্ধু তালুকদার জানান,আমি কয়েক বারের চেযারম্যান,জনগন ছাড়ছেননা,তাদের জন্য আবার নির্বাচন করবো। সাচনা বাজারের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির আহবায়ক নূরুল হক আফিন্দি জানান,আপতত এই বিষয়ে কোন চিন্তা ভাবনা করছিনা,দলীয় কোন নির্দেশনা পেলে আমরা পরবর্তীতে দলীয় ভাবে সিদান্ত নিবো।
জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী জানান,দলীয় ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে শুনেছি,কেন্দ্র থেকে কোন নির্দেশনা এলে দলের সকল স্তরের নেতা কর্মীদের মতামতে আমরা প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রার্থী নির্ধারন করবো।