Sunday, 20 September 2015 09:06

ট্রানজিট ফি পুনর্বিবেচনার দাবি বিএনপি’র Featured

0

ন্যাশনাল ডেস্ক : বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের ‘ট্রানজিট ফি’ টনপ্রতি ৫৮০ টাকা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন। নির্ধারিত ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট ফি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন এসব কথা বলেন।

ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট ফি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “গত বুধবার ট্রানজিট সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়

বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিটন পণ্য পরিবহনের জন্য এক হাজার টাকার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে প্রতি টনে ৫৮০ টাকায় নামিয়ে এনেছে, যা নিতান্তই অপ্রতুল। এটি দেশের স্বার্থের জন্য অনুকূল নয় বরং প্রতিকূল। ট্রানজিট ফি কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।”

অপ্রতুল ট্রানজিট ফি নেওয়ার কারণে রাস্তা ও অবকাঠামো সংস্কারের জন্য ভারত সরকারের কাছ থেকে নেওয়া এক বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে বাংলাদেশের অবস্থা কাহিল হয়ে যাবে বলেও মনে করেন রিপন।

তিনি বলেন, “বিএনপি ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্টের বিরোধী নয়। ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বন্ধু দেশ। কিন্তু নিজ দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কখনো বন্ধুত্ব হয় না।”

ট্রানজিট দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরত্বসহকারে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “এইডস আক্রান্তের দিক দিয়ে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রের মধ্যে আছে। সুতরাং যারা পরিবহন নিয়ে দেশে প্রবেশ করবেন আগে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। তাছাড়া ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অসংখ্য বিচ্ছিন্নতাবাদী রয়েছে। যদি পণ্য পরিবহন ব্যতীত অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন হয় তবে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।”

এ প্রসঙ্গে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফির ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপের কথা উল্লেখ করে বলেন, “মাত্র ৫০ কোটি টাকা আদায়ের জন্য যে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তারাই আবার কেন দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের কাছ থেকে ট্রানজিটের ন্যায্য মাশুল আদায়ে এতোটা আপসকামী হলো, তা জাতি জানতে চায়।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক আফজাল এইচ খান ও সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন।